বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ডুমুরিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রোগীদের নানা অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় দুর্গন্ধের ভাঁগাড়ে পরিণত হয়েছে হাসপাতাল এলাকা

 খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধি/

লিখছি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনার কথা, টয়লেটের পানি বাইরে এসে একাকার হয়ে যাচ্ছে। আর পানি জমে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। উচ্ছিষ্ট খাবারসহ নানা ময়লা-আবর্জনার ফেলার কারণে মশা-মাছি ভঁনভঁন করছে। পানি জমে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে আছে।  কাগজ, পলিথিন ব্যাগ, কাগজ, চিপসের প্যাকেট, খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, ইঞ্জেকশনের এ্যাম্পুল, অপারেশনে ব্যবহৃত গজ তুলাসহ মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস পত্র পড়ে রয়েছে। এছাড়াও মেডিকেলে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের  কেমিক্যাল জাতীয় দ্রব্য,  আসবাব পত্র,  চেয়ার-টেবিল ও ট্রলিসহ  চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত জীবাণুযুক্ত তুলো এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। যদিও হাসপাতালের নতুন ভবনের ওয়ার্ডসহ টয়লেটগুলোর পরিবেশ কিছুটা উন্নত দেখা গেছে। ভুক্তভোগীরা বলছে, হাসপাতালে ভেতরের সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা আবর্জনা আর নোংরা পরিবেশে হাসপাতাল যেন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও দুর্গন্ধের কারণে  সুস্থ হতে এসে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা। সব মিলে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। আর টয়লেটগুলো যেন মলমূত্র ও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। মনে হয় না দিনে একবারও পরিষ্কার করে। নাক মুখ চেপে এখানে ময়লা ফেলতে এসেছেন কহিনুর বেগম নামে এক রোগীর স্বজন   বলেন, আমি এক সপ্তাহ ধরে মেয়েকে নিয়ে এখানে ভর্তি। আমি প্রতিদিনই  দেখি সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত নানা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।  ময়লা ভরে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু এখানে বক্স না রাখলে কেউ তো ময়লা ফেলতো না। আর ময়লা ফেললেও ঠিক সময়ে কেউ পরিস্কার করছে না। ফলে এখান থেকে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।হাসপাতালের জরুরী বিভাগের অফিস কক্ষের পাশেই বর্জ্যের অসহনীয় দুর্গন্ধ। হাসপাতালে ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন টয়লেটে  খাবারের উচ্ছিষ্ট,পলিথিনের ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতল, ওষুধের বোতল, ইনজেকশনের শিশি-সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ-গজ, স্যালাইনের প্যাকেট, রক্ত ও পুঁজমাখা তুলা-গজসহ নানা মেডিকেল বর্জ্য চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়াও  ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ বেশি রোগী। শয্যা সংকুলান না হওয়ায় ঠাঁই নিতে হচ্ছে মেঝেতে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। টয়লেটের দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে মশা, মাছি ভোঁ ভোঁ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষের ভিতরে সেবা নিতে আসা রোগীদের থেকে ওষুদ কোম্পানীর এমপিও দের ভিড়, সেবা নিতে আসা সবুজ গাজী বলেন, জরুরি বিভাগে ডাক্তার দেখাতে গেলে ঠেঁলাঠেলি করে ডাক্তারের কাছে পৌঁছাতে হয় ওষুদ কোম্পানীর এমপিও’রা ওষুদের স্যাম্পল দিতে জরুরি বিভাগের কক্ষে ভিড় জমায়,একেক জন এমপিও’ তার নিজের কোম্পানীর ওষুদ পেসক্রিপশনে ডাক্তার কে দিয়ে লেখাতে ব্যস্ত থাকে এ বিষয়ে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তারও তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়না খুব কষ্ট করে ডাক্তার দেখাতে হয়,পাশাপাশি সবুজ গাজী আরোও বলেন,হাসপাতালে সেবা নিতে আসা যে সকল রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন,সে সকল রোগীদের সাথে দায়িত্বরত নার্সরা বিক্ষুব্ধ আচরণ করে থাকে। এমনকি নার্সদের কাছে কোন তথ্য জানতে চাইলে তারা রাগান্বিত উত্তর দিয়ে থাকেন।আমরা অচিরেই এমন ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 এব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কাজল মল্লিক বলেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংকট থাকায় ড্রেন ও ডাস্টবিনে ময়লা পড়ে আছে ।আমি আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কথা লিখেছি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী দিলে এ সমস্যা গুলো সমাধান হবে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগে এখন সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ওষুদ কোম্পানীর এমপিও’রা এখন আর জরুরি বিভাগে 

ভিড় করেনা। এবং নার্সরা যাতে আরোও বেশি দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

থেকে আরও পড়ুন