বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

মাটিরাঙ্গার চরপাড়াবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে চাই কার্যকরী উদযোগ

প্রতিনিধি :খাগড়াছড়ি

প্রতি বছরের মতো এ বছরেও বর্ষা মৌসুমের টানা বর্ষণের থাবায় খাগড়াছড়ি জেলাধীন মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকার একাধিক স্থানে পাহাড় ধস ও নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে চরপাড়ায় এলাকার বেশ কিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । এছাড়াও কিছু কিছু ফসলি জমি ও রাস্তার অংশ বিলীন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২০ থেকে ২২ বছর পূর্ব থেকে অদ্যবধি অল্প অল্প করে ভেঙে যাচ্ছে চরপাড়া ও তার আশেপাশে অবস্থিত নদীর কিনারাযয় বসবাসরত সাধারন মানুষের বসতভিটা, উঠান ও চলাচলের রাস্তা । বিগত দিনে সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশার উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উন্নয়ন করার আশ্বাস দিলেও অদ্যবদি দৃশ্যত তেমন কোনো উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়নি ।

রবিবার ( ৩ আগষ্ট ) মাটিরাঙা পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে বসতবাড়িসহ রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এমন চিত্র দেখা গেছে।

খবর পেয়ে সারা জমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছুটে যান মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আলম । তিনি উপজেলা পরিষদের সক্ষমতার বিষয় টি উল্লেখ করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছি এবং সাধ্যের মধ্যে সহায়তার সব রকম আশ্বাস প্রদান করেছী । তবে এমন দুরবস্থার স্থায়ী সমাধানেয় জন্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বলেন আমরা এ বিষয়ে শীঘ্রই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করব । এ সময় উপজেলা পরিষদ সহযোগী নুর আলমকে দাপ্তরিক ভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেন । পূর্বের দায়িত্ব পালনকারী ইউএনওরা এ বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছেন জানানো হলে তিনি পুনরায় চিঠি দেয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন ।
এ সময় এ বছরের অতিবৃষ্টির ফলে মাটিরাঙ্গা বৌদ্ধমন্দির পাড়া, চরপাড়া, চক্রপাড়া, মোহাম্মদপুর, মিস্ত্রি পাড়া, বলিপাড়া ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি ও ভূমিধসের শিকার হয়েছেন তাদেরকে ছবি সহ ইউয এন ও এর দপ্তরে সহায়তার জন্য আবেদনের পরামর্শ দেন ।
 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বর্ষা মৌসুমে বাবুপাড়া এলাকার বৌদ্ধমন্দির পাড়ার একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি ভেঙে যায়।এলাকাবাসীর উদ্যােগে সামান্য চলাচলের উপযোগী করা হলেও পৌরসভা কিংবা সরকারিভাবে কোন ব্যবস্হা গ্রহন করেনি কর্তৃপক্ষ । যার ফলে এ বছর পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে ।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড মন্দির পাড়ায় বসবাসকারী ক্ষতিগ্রস্ত রিপ্রোচাই মারমার স্ত্রী পাইচাইং মারমা বলেন, গতবছর ধলিয়া খালের প্রবল স্রোতে বাড়ির কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এ বছর আমার গোয়ালঘর ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এখন আমার থাকার একমাত্র ঘরটি নিয়ে ভাঙনের শংকায় আছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় উদযোগ নিতে সরকারের প্রতি মিনতি করেন ।

এছাড়াও নিরাপদ নয়, ঝুঁকি জেনেও এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত আশ্রয় কেন্দ্র সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ও যাচ্ছেনা । স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ভাঙ্গনের ভয়ে ভয়ে রাত্রি যাপন করছেন নিজ নিজ ভূমিতে ।

এদিকে বন্যা, ভূমি ও পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন। তারা এলাকায় গিয়ে সতর্কতামূলক প্রচারাভিযান চালাছেন। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সাহায্য প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছে ।
অন্যদিকে, একই সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান । তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, মাটিরাঙ্গা সদর হাসপাতালের মোড় থেকে চরপাড়া হয়ে পুরান বাজার পর্যন্ত যাতায়াতের ইট সলিং রাস্তাটি সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়া আমলের নির্মাণ করা হয়েছিল । যা অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে আসছিল । সময়ের ব্যবধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রাস্তাটির সংস্করণ ও এলাকার উন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আজকে এই বেহাল অবস্থার সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন । তিনি অনাগত দিনে পুনরায় ওয়াদুদ ভূঁইয়ার উন্নয়নের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামীতে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে তাহলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চরপাড়া বাসীর দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি বাস্তবায়ন করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে ।

মাটিরাঙা উপজেলা জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানান, পরিস্থিতি যদি আরো অবনতি ঘটে বা পাহাড় ধসের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং দুর্যোগ কবলিতদের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য খাবার ও ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

থেকে আরও পড়ুন