
পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ পাওয়া অর্থ ব্যয় ও কৃষি প্রনোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তেঁতুলিয়া কৃষি অফিসের বিরুদ্ধে ।
তেঁতুলিয়া কৃষি অফিসার তামান্না ফেরদৌস,কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জীবন ইসলাম ও উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেবসহ সংশ্লিষ্টরা নিয়ম না মেনে ধান,গম, ভুট্টা,সরিষা,ডাল,পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার প্রকৃত কৃষকদের নামের তালিকা না করে নিজেদের পছন্দের কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে৷ এদিকে সেই প্রণোনার টাকা খরচ দেখিয়ে সরকারী নিয়ম না মেনে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে অনুমোদনের স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ কৃষি অফিসের বিরুদ্ধে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রবি ও খরিপ মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকৃত কৃষকদের নামের তালিকা তৈরী না করে নিজেদের পছন্দের কৃষকদের নাম দেখিয়ে কৃষি প্রনোদনা বিতরন করা হয়েছে৷ প্রান্তিক কৃষকদের এই প্রণোদনা বিতরন করার কথা থাকলেও প্রণোদনা পেয়েছে ধনী কৃষকরা৷ একই ব্যক্তিকে দেয়া হয়েছে একাধিক ফসলের বীজ ও সার৷ এছাড়াও তালিকায় নাম রয়েছে অথচ দেয়া হয়নি প্রনোদনার বীজ ও সার এমন অভিযোগও রয়েছে কৃষকদের৷
কৃষি অফিসের এসব প্রনোদনা প্রায় শেষ পর্যায়ে কিন্তু কৃষি প্রনোদনা বিতরন ও কৃষকদের তালিকা এখনও প্রকাশ বা ওয়েবসাইটে প্রর্দশন করা হয়নি। তবে আংশিক কিছু তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড করলেও অনেক তালিকায় নেই
উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির অনুমোদনের স্বাক্ষর । এছাড়াও কৃষি অফিসের প্রনোদনার তথ্য ও তালিকা স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীরা একাধিকবার মৌখিক ও তথ্য আইনে আবেদন করলেও কোন তথ্যই প্রদান করেনি তেঁতুলিয়া কৃষি অফিস।
অনুসন্ধানে জানা যায়,গত ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রণোদনার উপকরণ ক্রয় কার্য সম্পন্ন হলেও সেই সময়ের উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)’র স্বাক্ষর ছাড়াই বিল তৈরি করা হয়। এমনকি, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনুমতিও গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে এই প্রনোদনার বীজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০% বীজ কৃষকের নিকট হতে ক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশনা অমান্য করে স্থানীয় বীজ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বীজ ক্রয় করেছে এই কর্মকর্তারা।
এদিকে কৃষি অফিস উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভার পূর্বেই দরপত্র কমিটি গঠন ও ক্রয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে । তিন সদস্য বিশিষ্ট দরপত্র কমিটি গঠন করা হলেও সেখানে কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য অফিসার মাহবুবুর রহমানকে সদস্য করা হয়। কিন্তু কমিটির সব কাজ ও স্বাক্ষর করেন কৃষি অফিসের দুই কর্মকর্তাই বা সদস্যই। দরপত্র কমিটির আরেক সদস্য উপজেলা মৎস্য অফিসার মাহবুবুর রহমানের কোন স্বাক্ষর নেয়া হয়নি আর তিনিও স্বাক্ষরও করেননি ৷ এদিকে কৃষি অফিস স্থানীয় ১৬ জন কৃষকের কাছ থেকে বারী গম-৩১ বীজ সরাসরি ক্রয়ের কথা বললেও কৃষকদের কোন অর্থ পরিশোধের নেই কোন রসিদ। এদিকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) থেকে গম ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাকা চালান ও অর্থ পরিশোধের প্রমাণ দেখাতে পারছে না কৃষি অফিস।
এবিষয়ে উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের হাচেন আলী নামে এক কৃষক বলেন,তালিকায় আমার নাম আছে আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম৷ আমি কৃষি অফিস থেকে কিছুই পাইনি৷
তালিকায় নাম থাকা উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সামিরুল হক নামে এক কৃষক ধান পায়নি বলে জানান।
এদিকে কৃষি প্রনোদনা দরপত্র সম্পাদন সম্পর্কিত কমিটির সদস্য ও তেঁতুলিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান কাগজপত্রে ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,নিয়ম যদি ঠিক আছে, আমি ঠিক আছি। নিয়ম যদি ঠিক না থাকে আমি ওখানে নাই৷ প্রসেসের কিছু ভুল আছে,ছিল । বিধিগত ভাবে কাগজপত্র প্রোপার করার কথা বলেছি৷ অনিয়মিত কাগজপত্র বা গ্রেপের মধ্যে আমি নাই৷
তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিএডিসির ভাউচার,সরকারি ভাউচার। যদি মনে হয় এত ছোট ভাউচারে এত বড় টাকার অ্যামাউন্ট কেন? এটার বোঝার কোন সমস্যা থাকলে তো সমস্যা তাই না । বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এগুলো৷
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু জানান,২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন মৌসুমে ফসলের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্ত বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি বিভাগ কর্তৃক দাখিলকৃত নথিপত্রে ত্রুটিপূর্ণ বিল ভাউচার পরিলক্ষিত হয়েছ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
