বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

মাটিরাঙ্গায় শিক্ষকের প্রহারকৃত শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছে

অন্তর মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় রিফাত হোসেন (৯) নামে ৩য় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শিক্ষক কর্তৃক গালে চড়মারার ঘটনা ঘটেছে ।
শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, শ্রেণি শিক্ষক কর্তৃক ঐ শিক্ষার্থীকে চড়মারার পর শিশু শিক্ষার্থী কিছু সময়ের জন্যে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় । স্বাভাবিক আচরণ বন্ধ করে হতবিহবল হয়ে পড়ে । ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নিকট আত্মীয় স্বজন । পরিস্থিতির বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুক হোসেন নিজেই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঐ শিক্ষার্থীকে কোলে তুলে অটোরিক্সাযোগে মাটিরাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান । এ সময় শিক্ষার্থীর বাবা ও মা সাথে ছিলেন । খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন শিক্ষার্থীর অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ।
শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সহ অন্যান্য ডাক্তারগণের নিবিড় চিকিৎসা সেবায় শিশুটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরে আসে । এ সময় দ্রুত শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য তাকে স্যালাইন পুশ করা হয় । পরবর্তীতে পারিবারিক অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতকল্পে মেরে ঘাড় ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি যাচাইয়ে ডাক্তার শোভন দত্ত শিক্ষার্থীকে এক্সরে করানোর পরামর্শ দেন । এরপর এক্সরে রিপোর্ট বিশ্লেষণ শেষে কর্তব্যরত ডাক্তার বলেছেন, ক্লিনিক্যালি বিবেচনায় বিপদমুক্ত আছে শিশুটি । ঘাড় ভাঙ্গার মত কোন বিষয় এক্সরে রিপোর্টে পাওয়া যায়নি
। এ সময় শিশুটিকে তিনি চারদিক থেকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখানোর জন্য বললে শিশুটি স্বাভাবিকভাবেই চারদিকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখান এবং নিজে সুস্থ আছে ভালো আছে বলে অনুভূতি প্রকাশ করে শিশুটি উপস্থিত সকলের সামনে ।
এর আগে শিক্ষার্থীর বাবা ও মা দুজনই শিক্ষার্থীকে মেরে ঘাড় ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সহকারী শিক্ষক ফারুখ হোসেনের বিরুদ্ধে ।

সোমবার (২১জুলাই) সকালের দিকে মাটিরাঙ্গা সরকারী মডেল স্কুলে এঘটনা ঘটে ।
শিশুটিকে মাটিরাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরবর্তীতে চিকিৎসা শেষে তাকে ছুটি দেয়া হয় । রিফাত মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নবীনগর এলাকার দিন মুজুর স্বপন মিয়ার ছেলে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সকালে বাংলা হাতের লেখা জমা দেয়ার সময় শিশুদের ধক্কাধাক্কীতে টেবিলের উপর রক্ষিত শিক্ষক ফারুকের মোবাইল ফোনটি মাটিতে পড়ে ডিসপ্লে ভেঙ্গে যায় । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীকে প্রহার করলে গুরুতর অসুস্থ্য হলে মাটিরাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, মোবাইল পড়ে যাওয়ায় রাগান্বিত হয়ে ২-৩ টা চড় মেরেছি । এ সময় নিজের অপরাধ স্বীকার করে শিশু শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি । ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে নিজেকে সংযত রাখবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন ।

এ বিষয়ে ইউএনও মনজুর আলম বলেছেন , আমরা প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করতে বলেছি । তার জবাব হাতে পেলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবো । তবে গুরুতর কিছু না হলে পরবর্তীতে যাতে এহেন কর্মকান্ডে তিনি আর না জড়ান সে বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হবে ।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক জানান ঘটনার সময় আমি সরকারী কাজে খাগড়াছড়ি অবস্থান করছিলাম বিধায় বিস্তারিত কিছু জানিনা । তবে ঘটনা জানার পর ঐ শিক্ষককে শোকজ করেছি ।

থেকে আরও পড়ুন