বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সমস্যায় জর্জরিত,ব্যাহত চিকিৎসা সেবা 

মোঃ মাহফুজুর রহমান সরকার,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

শয্যা, জনবল ও চিকিৎসক সংকট সহ নানান সমস্যায় জর্জরিত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মুখ থুবড়ে পড়ছে চিকিৎসা সেবা। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৫৮ বছর পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও মিলছেনা ৫০ শয্যার আধুনিক চিকিৎসা সেবা।

শনিবার ৫ (জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলছে মাত্র ৩ জন ডাক্তার দিয়ে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে দীর্ঘ রোগীর লাইন। একাধিক রোগীর সাথে কথা হলে তারা বলেন,ডাক্তার নাই।পুরা বহির্বিভাগ মিলে একজন ডাক্তার।চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার সোনারপাড়া গ্রামের মঈন উদ্দিন বলেন,এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যে পরিস্থিতি দেখছি তাতে ইমারজেন্সি রোগী না নিয়ে আসাই ভালো। ঘণ্টার পর ঘন্টা রোগীকে নিয়ে অপেক্ষা করে রোগীর ঠিক সময়ে চিকিৎসা হচ্ছেনা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো বহির্বিভাগের প্রায় সব রোগীর চোখে মুখে হতাশার ছাপ। আরও দেখা যায়, ৩১ শয্যার পুরাতন ভবনের নিচতলায় জরুরি বিভাগে শ্বাসকষ্ট,ডায়রিয়া ও দুর্ঘটনায় আহত রোগী এবং তাদের স্বজনরা সেখানে ভিড় করে আছেন। দায়িত্বরত একজন চিকিৎসক এবং অন্য স্টাফরা তাদেরকে পর্যায়ক্রমে সেবাদান করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি, এক্স রে ও আলট্রাসনোগ্রাম রুমের সামনেও অনেক ভিড়। উপর তলায় শয্যা সংকটে অনেকে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮শ ৪৮ জনের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্যে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেনো অপ্রতুল।অপারেশন থিয়েটার চলছে ভাড়া করে আনা এনেস্থেসিওলজিস্ট দিয়ে। প্রধান সহকারী ও স্টোর কিপার না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি শাখা স্টোর ও হিসাব স্বাস্থ্য সহকারীকে দিয়ে চালানো হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ জহুরুল আলমের দেয়া তথ্যমতে,নবনির্মিত ভবনের কার্যক্রম চালু হলেও ৫০ শয্যার জনবল নিয়োগের অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে মিলবে না ৫০ শয্যার আধুনিক চিকিৎসা সেবা। বাধ্য হয়েই ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিতে হচ্ছে ৩১শয্যার সেবা।প্রতিদিন গড়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বহির্বিভাগে সেবা নেন ৫০০ থেকে ৬০০ জন,আন্তঃবিভাগে সেবা নেন ৫০ থেকে ৫৫ জন এবং ল্যাবে সেবা নেন গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন রোগী। তিনি বলেন,নানান সংকটের কারণে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১শয্যারও সেবা দেওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।বর্তমানে ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধুমাত্র ৩১শয্যার জন্যই আবাসিক মেডিকেল অফিসার সহ মোট ১২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।এছাড়াও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে প্রধান সহকারী, স্টোর কিপারের পদও শুন্য আছে। বাধ্য হয়েই স্বাস্থ্য সহকারীকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই বিভাগের কাজ চালানো হচ্ছে।এমনকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ধরনের মালামাল রাখার জন্যে নাই কোনো স্টোর রুমের ব্যবস্থা। তিনি আরও জানান, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেখানে ৩১ শয্যার জন্যই প্রয়োজন ১৫ জন ডাক্তার, সেখানে একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনী),ও দুইজন মেডিকেল অফিসারকে দিয়েই চলছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।ফলে মাত্র ৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছে স্বাস্থ্যসেবা।সব মিলিয়ে শুধুমাত্র ৩১শয্যার জন্যই মোট ১২২ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৭৪ টি বাকি ৪৮ টি পদ শূন্য রয়েছে।এছাড়াও তিনি বলেন,স্যানিটারি ইন্সপেক্টর,স্বাস্থ্য পরিদর্শক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, জুনিয়র মেকানিক, এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ও ৩ জন ওয়ার্ড বয়,২ জন আয়া,২ জন বাবুর্চি থাকার কথা থাকলেও সবগুলো পদ শুন্য। তাছাড়া ৩ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ৪ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী ও একজন নিরাপত্তা কর্মীর পদও শূন্য রয়েছে।  

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সোলায়মান মেহেদী হাসান বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারংবার জানিয়েছি। জনবল সংকট দ্রুত নিরসন করতে না পারলে একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়বে চিকিৎসা সেবা। যাতে এই উপজেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠী আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্যে আমার চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখবোনা। তিনি আরও জানান,৩১শয্যার জনবল সংকট পাশাপাশি ৫০ শয্যার জনবল নিয়োগ দুই বিষয়েই লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। কবে নাগাদ সৃষ্ট এ সমস্যার সমাধান হবে বিষয়টি জানতে চাইলে কর্মকর্তা জানান, এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো জানবেন ।

থেকে আরও পড়ুন