
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি :
বরগুনার পাথরঘাটায় গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে মুষলধারে অনবরত বৃষ্টি। এ বৃষ্টিতে পথ-ঘাট ভিজে একাকার। সড়কের কোথাও কোথাও জমেছে পানি, কোথাও বৃষ্টিতে সড়কে দেয়া সুরকি কাদায় পরিনত হয়েছে। আর এমন অবস্থায়ই উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের কাজের কার্পেটিং চলছে। বৃষ্টিতে সড়কে দেওয়া প্রাইম কোট ধুয়ে গেলেও সেদিকে সংশ্লিষ্টদের কোনো নজর নেই।
সরেজমিনে কাঠালতলী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, শনিবার সকালে কাঠালতলী বাজার থেকে পরিঘাটা এলাকা পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কে মুষলধারে বৃষ্টি পরছে। এর মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠনের লোকজন ছাতা মাথায়ধরে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকরাও কাজ চালু রেখেছেন। সড়কের পাশে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সেগুলো বেলচার সাহায্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেই স্থানেই পিচ ঢালাই দিচ্ছেন তারা। তাছাড়া সড়কে দেওয়া প্রাইম কোট বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে। সেখানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কোন কর্মকর্তাকে খুজে পাওয়া যায়নি। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বলে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, নিয়ম মেনেই কাজ করছেন তারা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজার থেকে পরিঘাটা পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কটি (২ হাজার ২শ মিটার) সংস্কারের জন্য ২০২৩ সালে দরপত্রের আহবান করা হয়। এতে সিকদার ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪৬ টাকার কাজটি পান। এ কাজ শুরু করার কথা ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এবং শেষ হওয়ার কথা ২০২৩ সালে অক্টাবর মাসে। ওই সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারায় কাজের মেয়াদ বাড়ান ২০২৫ সালের মে মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত। কয়েকদফায় কাজের মেয়াদ বাড়ানোর পরেও শেষ না করে মুষলধারে বৃষ্টি মধ্যেই কাজ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় মো. জয়নাল, জগদীস গোমস্তা, কমল ডাক্তারসহ একাধীক ব্যাক্তি জানান, সড়কটিতে শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছেন ঠিকাদারের লোকজন। সড়কটির দুপাশে (এজিং) এর অনেক অংশেই মাটি নেই এবং খোয়ায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে ঢালাইয়ের জন্য সড়কে প্রাইম কোট দেওয়া হয়। তবে তা বৃষ্টিতে ধুয়ে গেলেও নতুন করে আর প্রাইম কোট দেওয়া হয়নি। তাছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে মুষলধারে বৃষ্টির পরছে এর মধ্যেই সড়কে পিচ ঢালাইয়ের (কার্পেটিং) কাজ হয়েছে। কাজের সময় এলজিইডি অফিসের কোন লোকজন থাকে না, তাদের সহযোগীতায়ই এ কাজ করছে যাচ্ছে। এভাবে যদি অনিয়ম করে সড়কে কাজ করা হয় তাহলে সড়কটি বেশিদিন টিকবে না। এলাকাবাসী আপত্তি জানালেও তারা তাদের কথা শোনেননি। এভাবে নয়-ছয়ভাবে কাজ করলে জনসাধারনের সেই দুভোগ রয়েই যাবে। সড়কটির দিকে প্রশাসনের নজর দেয়া উচিৎ।
সড়কের কর্মরত শ্রমিকরা জানান, প্রতি দিন কাজ করলেই দিন শেষে টাকা পান। ঠিকাদারের লোকজন যেভাবে কাজ করতে বলেন সেরকমই করছেন, ভালো মন্দ ঠিকাদারের বিষয়!
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিকদার ট্রেডার্সের স্বত্তাধীকারী মনির জোমাদ্দার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, যখন কাজ শুরু করেছি তখন কোন বৃষ্টি ছিলো না। পরে বৃষ্টির কারনে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা এবং কাজের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা কোন অনিয়ম করছিনা নিয়মের মধ্যেই শুরু থেকে কাজ করে আসছি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে এলজিইডির কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে পাথরঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সমিরন মন্ডল বলেন, কাঠালতলীতে যে কাজটি হচ্ছে সেটি বিআরবি প্রকল্পনের কাজ। গত ২ দিন আগে শুরু হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার কেন শুযোগ নেই। যেহেতু এখন বর্ষাকাল সেক্ষেত্রে আমরা সতর্কতার সহিত কাজ করছি। আমাদের লোক কাজের সাইটে যাওয়ার আগেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুরু করেছে। যে মাল ফেলেছে তা উঠিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের এবং এজিং এর পাশের অনেকাংশে কোন মাটি নেই কেনো এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, এটি অনেক আগের কাজ, আমি আসার পরে যেমন পেয়েছি তেমনই করছি। এর আগে কি হয়েছে তা আমি বলতে পারবো না। তবে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার কোন সুযেগ নেই এব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
