
খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জহুরুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মহিতুর রহমান রিপন সহ ছয় জন ইউপি সদস্য।এমনকি তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে ২০২২ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান জহুরুল হক ইউনিয়ন পরিষদকে তার একক কার্যালয়ে পরিণত করেছে।পরিষদের মেম্বারদের সঙ্গে কোন আলোচনা না করেই খেয়াল খুশিমতো কাজ করছেন।সরকারী বরাদ্দের কোন তথ্য মেম্বারদের অবহিত না করেই এককভাবে যা ইচ্ছা তাই করছেন,ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্র নিতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া,গভীর নলকূপ স্থাপনে সরকারী ফিস থেকেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া,৪০ দিনের কর্মসূচিতে অনিয়ম,ল্যাম্পপোষ্ট বসানো প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা নামেমাত্র কাজ করে আত্মসাৎ,ভিজিডি কার্ড প্রদানে অনিয়ম,ওয়ান পার্সেন্ট প্রকল্পের বরাদ্দের টাকায় কেনা ল্যাপটপ পরিষদে ব্যবহার না করে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার।পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ৩০% সচিব ও ৭০% চেয়ারম্যান নিয়ে থাকে,এমনকি পরিষদের মেম্বারদের দেওয়া প্রকল্প থেকে ১ লাখে ১০ হাজার টাকা চেয়ারম্যানকে দিতে হয়। এসকল কাজে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করে থাকেন বলে গত কয়েক দিন এমন মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ধামালিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল হক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান।
তবে সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র,এ অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান জহুরুল হক এ সকল অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন,আমি ধামালিয়াবাসীর উন্নয়নের পক্ষে সব সময়ই কাজ করে যাচ্ছি,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে বিজয়লাভের পর থেকে একটি কুচক্রী মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন ও নাজেহাল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে।আমি পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিষদের সকল মেম্বারদের সাথে আলোচনা করে তাদের কে সাথে নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।কিছু মেম্বর অবৈধ সুবিধা নিতে পারছেনা এজন্য মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ ছড়াচ্ছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন।আমার সকল উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান রয়েছে।আমি সমালোচনাকারীদের আমার কাজ দেখতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার সবই মনগড়া ভিত্তিহীন।
ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান বলেন,আমি বিধি মোতাবেক চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে থাকি।একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।ইউনিয়ন পরিষদে স্বচ্ছতার সাথে সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়। এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের তিব্র নিন্দা জানাই।
ইউপি সদস্য নুর ইসলাম সরদার বলেন,চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে সবগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি আমাদের সকল মেম্বারদের ডেকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বন্টন করে দেন। তিনি স্বচ্ছতার সাথে ইউনিয়নের কাছ করে যাচ্ছেন।আমরা পরিষদের অধিকাংশ মেম্বার চেয়ারম্যান সাহেবের পক্ষে রয়েছি।তার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে তার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
ইউপি সদস্য সিদ্দিক মোড়ল,ইউপি সদস্য মহাসিন গাজী ও আব্দুর রশীদ বলেন,আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ।পরিষদের সকল কাজে আমাদের সকল মেম্বারদের সাথে আলোচনা করেই কাজ করেন।চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে আমাদের পরিষদের কয়জন মেম্বার যড়যন্ত্র করে মিথ্যাচার করছে যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে,অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমার ওপর ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন তদন্ত কার্যক্রম আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে।
