বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

“জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করলেন মহিলা নেত্রী হেনা বেগম

কামরুজ্জামান শিমুল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

বিএনপি নেতাকর্মীদের বিচার দাবিতে এসে “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করলেন মহিলা নেত্রী এডভোকেট হেনারা বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি মোড়ের একটি মানববন্ধনে। রবিবার (১১ই মে) বেলা সাড়ে ১১ টায় বেতাগা, লখপুর পিলজঙ্গ এবং এবং শুভদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ভাঙচুর লুটপাট ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহতকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও দলীয় শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন চলাকালে এডভোকেট হেনারা বেগম তার বক্তব্যের শেষে “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। 

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মানববন্ধনে উপস্থিত সকলেই বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম গোরার সমর্থক। উপস্থিতির মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীদের সাথে সক্ষতা রেখে চলেছেন। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে তাদের তেমন দেখা যায় নাই। ৫ই আগস্টের পরে তারা বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম গোরার একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিচ্ছেন। মানববন্ধনে উপস্থিত প্রত্যেকেই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন দাসের অনুসারী বলে জানা গেছে। 

গত শুক্রবার শুভদিয়া ইউনিয়নে ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল ঘোষণা শেষে বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম গোরা এবং ইফতেখার আহমেদ পলাশ গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনায় উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়। রবিবার বেলা ১১ টায় কাটাখালি মোড়ে কামরুল ইসলাম গোরা গ্রুপের সমর্থকরা বিএনপি নেতা পলাশ গ্রুপের সমর্থক শরিফুল ইসলামের বিচার দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট হেনারা, আলিম উদ্দিন, খলিল শেখ, মাসুদ রানা আরিফ, মোদাচ্ছের মল্লিক, জুয়েল হোসেন, মহসিন ও নূর মোহাম্মদ সহ তাদের সমর্থক এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।

অনেকের বক্তব্যের পরে অ্যাডভোকেট হেনারা তার বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি ৯ তারিখে শুভদিয়া ইউনিয়নে কামরুল ইসলাম গোরার সভাপতি পদপ্রার্থী নির্বাচিত হয়, বাকি দুইটায় শরিফুল ইসলাম কারিম ভাই হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পলাশ বাহিনী রেজাল্ট মেনে না নিয়ে সেখানে আতর্কিত হামলা করে। আউয়াল ভাই সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করলে আউয়াল ভাইয়ের উপর হামলা করে মারপিট করে। আমিও সেখানে আঘাতপ্রাপ্ত হই। কামরুল ইসলাম গোরা ভাইকেও তারা শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। এই ঘটনার জের ধরে শরিফুল ভাই কাটাখালিতে আমাদের শহীদ ভাইকে মারপিট করে। সে বর্তমানে হাসপাতালে আছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যার কারনে আমাদের এই মানববন্ধন। সবাইকে ধন্যবাদ। জয় বাংলা।

পুরো মানববন্ধনটি কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীসহ অনেকে লাইভ করছিলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ এর শিকার হন এডভোকেট হেনারা বেগম। দুপুরে একটি ভিডিও বার্তায় এডভোকেট হেনারা খাতুন বলেন, আজ দুপুর ১২:০০ টায় কাটাখালির মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি। এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে বেতাগা শুভদিয়া পিলজঙ্গ এবং লকপুর এই চার ইউনিয়নের কামরুল ইসলাম গোরার জাতীয়তাবাদী দলের লোক অংশগ্রহণ করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে আমার বক্তব্যকালে শেষটা এরকম ছিল “জয় বাংলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোন লোকের ঠাঁই এই বাংলায় হবে না”। অথচ পলাশ গ্রুপের লোক এবং বিরোধী দলীয় লোকজন শুধুমাত্র জয় বাংলা কথাটি রেখে বাকি কথাগুলো এডিট করে ফেসবুক এবং মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে। আমি কখনোই জয় বাংলার লোক ছিলাম না। জয় বাংলার কোন লোকের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলাম না। কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডেও আমি কখনোই জড়িত ছিলাম না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

থেকে আরও পড়ুন