বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পাথরঘাটায় দিনে দুপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুটের অভিযোগ

নাজমুল ইসলাম সৈকত পাথরঘাটা (বরগুনা)

বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানি বাজারে আলহাজ্ব মোঃ জাকির হোসেন খলিফার মালিকানাধীন মেসার্স মুন্নি মেশিনারীজ এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে দিনে দুপুরে অনুঃ ১৫ লক্ষ টাকার বিভিন্ন ধরণের লোহার মালামাল লুটকরে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
এঘটনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক আলহাজ্ব মোঃ জাকির হোসেন খলিফা বাদী হয়ে একই ইউনিয়নের প্রয়াত আমির ডিলারের ছেলে মোঃ সোহাগ (৩৮) ও মোঃ সোহেল (৪২) প্রয়াত মহসিন হাওলাদারের ছেলে মোঃ দুলাল মাঝি (৩৮), মোঃ ইউসুফ খানের ছেলে মোঃ রফিক খান (৩৫) প্রয়াত রহমান হাওলাদারের ছেলে আঃ রাজ্জাক (৫৩)সহ আরো অজ্ঞাত ৮/১০জনকে আসামী করে ২৮ নভেম্বর বরগুনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন যার নং ২১৩/ ২০২৪। 
ওই প্রতিষ্ঠানে স্থাপনকরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় একদল লোক মাথায় লাল কাপড় বেঁধে উল্লেখিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে লোহার বিভিন্ন ধরণের মালামাল নিয়ে যাচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ নভেম্বর শনিবার সকাল অনুমান পোনে এগারোটা  হইতে দুপুর অনুম ১২ ঘটিকা পর্যন্ত,জাকির হোসেন খলিফার মালিকানাধীন মেসার্স মুন্নি মেশিনারীজ এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উল্লেখিত আসামীরা অনুঃ ১৫ লক্ষ টাকার বিভিন্ন ধরণের লোহার মালামাল লুটকরে নিয়ে যায়।
এসময়ে জাকির হোসেন খলিফার দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে প্রাণে রক্ষা করতে পারলেও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
পরে তার ডাক চিৎকার এলাকাবাসী ছুটে এসে তারা পাথরঘাটা থানা পুলিশকে খবর দিলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
মামলার বাদী জাকির হোসেন খলিফা বলেন,উল্লেখিত ব্যক্তিরা এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী।তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ২ লক্ষটাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল, তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সন্ত্রাসীরা মাথায় লাল কাপড় বেঁধে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে প্রায় ১৫ লক্ষটাকার মালামাল লুট করে নিয়েগেছে।
এসময়ে সন্ত্রাসীরা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করলেও সিসি ক্যামেরার কিছু ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করতে আমি সক্ষম হই।
জাকির হোসেন খলিফা বলেন, আমি বর্তমানে পরিবারসহ চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি, তিনি বলেন দিনে দুপুরে যে সন্ত্রাসীরা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করতে পারছে তারা আমাকেও যেকোন সময় মেরে ফেলতে পারে তাই আমি এব্যাপারে প্রসাশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কমানা করছি।
এঘটনায় প্রতক্ষ্যদর্শী মোঃ আনোয়ার, মোঃ আউয়াল,মোঃ হাসান আকন, মোঃ বাদশা,মোঃ আফজাল মৃধাসহ একাধিক ব্যক্তি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তারা বলেন ২৩ নভেম্বর শনিবার সকাল অনুমান পোনে এগারোটায় উল্লেখিত ব্যক্তিরা আকস্মিক জাকির হোসেন খলিফার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে বিভিন্ন ধরণের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

১নং আসামি মোঃ সোহাগ বলেন, ওই জমি আমারদের রেকর্ডি, সেই জমিতে জাকির খলিফা ঘর তোলায় আমরা উচ্ছেদ মামলা করি। মামলায় রায় পেয়ে আদালত এর থেকে সরকারি নাজিরের নেতৃত্বে জমি উচ্ছেদ করার জন্য আসলে সেখানে আমি ও আমার ভাই গিয়েছিলাম। তবে মালামাল লুটের কোন ঘটনা ঘটেনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পাথরঘাটা সার্কেল মোঃ আবু ছালেহ বলেন,এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।

থেকে আরও পড়ুন