
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় বসত ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় প্রতিপক্ষ ও তার সহযোগীদের হামলায় নারীসহ ৩জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। রবিবার বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন, ভান্ডারখোলা গ্রামের অনুদেব দাস (৪০) তার স্ত্রী লাকি দাস (৩০) ও ভাই তুষার দাস ৩৪)।
অভিযোগে অনুদেব দাস জানান, পার্শ্ববর্তী রাড়িপাড়া ইউনিয়নের ভান্ডারখোলা গ্রামের গোবিন্দদাস ও গোবিকান্ত দাসের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। রবিবার দুপুর দুইটার দিকে ব্যবসায়িক কাজ শেষ করে বাড়িতে আসলে প্রতিপক্ষরা পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আমার বাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। প্রতিপক্ষ গোবিন্দ দাসের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী আমার বসত ঘরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ভাঙচুর করে। তারা আমাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর যখম করে। আমাকে উদ্ধার করতে আমার স্ত্রী ও ভাই আসলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও পিটিয়ে জখম করে। এ সময় তারা আমার কাছে থাকা ব্যবসায়িক ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী রশিদা বেগম জানান, হামলার ঘটনা শুনে দ্রুত ঘটনাস্থল এসে দেখি স্থানীয় গোবিন্দ দাস, গোবিকান্ত দাস, বেল্লাল, সোহেল কামাল, সোবহান, ইব্রাহিমসহ ১০/১২ জন লোক গোবিন্দ দাসের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করছে ও তাকে মেরে অজ্ঞান করে মাটিতে ফেলে রেখেছে। আমরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করি।
এ ঘটনায় অনুদেব দাসের ভাই আহত তুষার দাস জানান, হামলার পর থেকে সন্ত্রাসীরা আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। তাদের ভয়ে এখন পরিবারের লোকজন রাস্তায় বের হতে পারে না। এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে যারা যারা জড়িত প্রত্যেকের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় কচুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রাশেদুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনা শুনেছি। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
