বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পেকুয়ায় হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা কে বাঁচাতে মরিয়া বিএনপি।

নিজস্ব প্রতিনিধি.কক্সবাজার

কক্সবাজারের পেকুয়ার শিক্ষক আরিফ হত্যা মামলার মূলহোতা পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে আদালতে দাঁড়িয়েছেন এডভোকেট সরওয়ার। তিনি জাহাঙ্গীর কে নির্দোষ দাবী করে তার মুক্তি দাবি করেন। আসামি পক্ষে এডভোকেট জাহাঙ্গীরের যুক্তিতর্ক দেখে আদালতে হট্টগোল তৈরি হয়। এসময় নিহতের পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ জনগণ বিষয়টি খুবই দু:খজন বলে দাবি করেন।কারণ এডভোকেট সরওয়ার পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইনের আপন ছোট ভাই। এ ঘটনায় পুরো উপজেলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। পেকুয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুটও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেন:
ছি: ছি—-
বড়ভাই,
এটা আমার/আমাদের জন্য ঘৃণার।
খবর নিয়ে দেখেন আরিফ ভাইয়ের বাড়িতে এখনো হাজারো মানুষ ভীড় জমাচ্ছে,পরিবারের প্রতি সহানুভূতি সমবেদনা জানাতে।এমন জঘন্য হত্যাকান্ডের পর আমরা ভাবিনি পেকুয়ার কোন আইনজীবী কোর্টে আসামির পক্ষে দাঁড়াবে!! আর আরিফ ভাইয়ের বিপক্ষে দাড়ানো উকিল আপনার পরিবারের কেউ হবে কল্পনাও করিনি?? সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনতিবিলম্বে জনসম্মুখে আপনার বক্তব্য আশা করছি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সহ তার পরিবারের প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা পরিচালনা করেন পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফরহাদ হোসাইন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের মামলাও একই ভাবে পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ফরহাদ। জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম সহ তার পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল ইকবালের। একই সাথে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট করে পেকুয়া উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। এই দুই সংগঠনের সমন্বয়ের দায়িত্ব ছিল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফরহাদ হোসাইনের। তারা দুইজন জাহাঙ্গীরের টাকার বিনিময়ে বিএনপি এবং ছাত্রদলের কর্মীসমর্থকদের আনারষ প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী রোমানা আক্তারের পক্ষে কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এমনকি তারা দুইজন জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর পক্ষে হাউস ক্যাম্পেইনও করেন। উল্লেখ্য, এই কুখ্যাত পরিবার টিকে রক্ষার জন্য পেকুয়া উপজেলা বিএনপি এবং ছাত্রদলের এই দুই নেতা ৫ ই আগস্ট থেকে তাদের বাড়ি ঘর নিরাপদ রেখে জাহাঙ্গীরের পরিবারের সমস্ত সম্পত্তির রিসিভার হয় বিএনপির এই দুই নেতা। তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় পেয়ে আওয়ামী লীগের পতনের পরও জাহাঙ্গীর এবং তার ভাইয়েরা একজন স্কুল শিক্ষক কে খুন করতে দ্বিধা করেনি। তাদের কারনেই শিক্ষক আরিফ অপহরণের মামলা নেয়নি পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন বিএনপির এই দুই নেতার চাপে প্রশাসন শিক্ষক আরিফ কে উদ্ধারে তেমন তৎপরতা দেখায়নি। যার কারণে আরিফ কে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জাহাঙ্গীর আলম কে ১২ তারিখ রাতে চট্টগ্রাম থেকে আটক করে র‍্যাব। এরপর আজ তাকে আদালতে তুললে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইকবাল আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে ঠিকাদারি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। অন্যদিকে নিজেকে আইনজীবী দাবি করা ভূয়া আইনজীবী উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফরহাদ হোসাইন আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ দখল করা জায়গা এবং দখলের সময় হওয়া নানা মামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। যদিও ছাত্রদলের পোস্টে বিবাহিত দের থাকার কোন সুযোগ নেই। ৫ই আগস্টের পর থেকে এই দুই নেতা পেকুয়া উপজেলায় দখল বেদখলের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করে।

থেকে আরও পড়ুন