বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ডুমুরিয়ায় কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে অসংখ্য মৎস্যচাষীর ঘের তলিয়ে গেছে, কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

খান আরিফুজ্জামান(নয়ন), ডুমুরিয়া (খুলনা)প্রতিনিধিঃ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের অসংখ্য মৎস্যচাষীদের ঘেরের পোনা মাছ, গলদা চিংড়ি ও ঘেরের আইলে লাগানো বিভিন্ন রকমের  সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মৎস্যচাষীদের ঘের পানিতে তলিয়ে একাকার হয়ে গেছে। মৎস্যচাষীরা এমন পরিস্থিতে চোখে সরষে ফুল দেখছে।

উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের গোনালী গ্রামের মৎস্য চাষী মোঃ আতিয়ার রহমান খান,বিএম মিজানুর রহমান,হায়দার খান,রফিক সরদার সহ বেশ কয়েক জন মৎস্য চাষী বলেন অনেক টাকা খরচ করেছি। এই ক্ষতি কীভাবে পুরণ হবে জানি না? এখন আমাদের এই দুরাবস্থা। দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। কী যে করব? বুঝে উঠতে পারছি না। প্রতি বছর এভাবে বিল তলিয়ে যাচ্ছে। গত বছর আমাদের অনেক  মাছ চলে গেছে। এ বছরেও একই অবস্থা দাড়িয়েছে। প্রত্যেকটা ঘেরের এমনই অবস্থা। সব ঘের তলিয়ে গেছে। বিলের পানি সরানোর কোনো জায়গা নেই। তবে পানি সরে জন্য বামুন্দিয়া টিপনা বাওড়ের খাল দিয়ে সেখানে নেট পাটা দিয়ে খালে পানি সারানোর পথ বন্ধ রেখেছে দখলদাররা । পানি সরানোর কোনো সুব্যবস্থা নেই। আমরা এখন খুব অসহায় অবস্থায় আছি।

বিশেষ করে গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে আমাদের মতো উপজেলার অসংখ্য মৎস্য চাষীর  ঘেরের লাখ লাখ টাকার গলদা চিংড়ি ও পোনা মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

 এভাবে নিজেদের সর্বনাশ এবং অসহায়ত্বের কথা জানান ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যচাষীরা। উপজেলার হাজার হাজার মৎস্যচাষী বলেন  আমরা যারা মৎস্যচাষের ওপর নির্ভরশীল, সবার মৎস্যঘের পানিতে প্লাবিত। এতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার হেক্টর জমির মাছ এখন পানিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উন্মুক্ত বিলে মানুষ মাছ শিকার করছে আর মৎস্যচাষিরা কেঁদে মরছে।  প্লাবিত হওয়ায় কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।স্থানীয় মৎস্যচাষীদের সরকারের কাছে  একটাই দাবি পানি নিষ্কাসনের সুব্যবস্থা করে জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের সরকারীভাবে সহযোগিতা করে তাদের ক্ষতিপুরণ করা।

থেকে আরও পড়ুন