
খান আরিফুজ্জামান(নয়ন),ডুমুরিয়া(খুলনা),প্রতিনিধিঃ
ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল সৈয়দ ঈসা টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং দূর্নীতির তদন্তে বৃহস্পতিবার শুনানী হয়। তবে অসুস্থতার অযুহাত দেখিয়ে তদন্ত কমিটির শুনানীতে হাজির হননি অধ্যক্ষ। এদিকে কলেজটির ছাত্র-ছাত্রীরা অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে পৃথক একটি অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইলে অবস্থিত সৈয়দ ঈসা টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন, এমপিও ভুক্তির কথা বলে কমপক্ষে ৪০ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানটিতে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার শুনানী গ্রহণ করে। তবে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তার ওই শুনানীতে হাজির হয়নি। জানা গেছে অসুস্থতার দোহায় দিয়ে তিনি শুনানীতে আসেননি। একজন চিকিৎকের বরাত দিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অসুস্থতার জন্য তাকে সম্পূর্ণ বেডরেষ্টে থাকতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গতকালও তাকে ডুমুরিয়া, চুকনগর, আঠারোমাইল বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে যেয়ে নানা প্রকার ফন্দি ফিকির করতে দেখা গেছে। এদিকে অভিযোগকারী কমপক্ষে ৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী শুনানীতে অংশ নেন। তারা এ সময়ে গত ২০০৪ সাল থেকে গত ২০ বছরে অধ্যক্ষের নানা অনিয়মের দালিলিক প্রমানাদি উপস্থাপন করেন। তদন্ত কমিটি সকলের লিখিত বক্তব্য গ্রহন করেন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) আরাফাত হোসেন বলেন, অধ্যক্ষ অসুস্থতার জন্য তদন্ত কমিটির তণবে হাজির হননি। তবে অভিযোগকারী সকলের কাছ থেকে লিখিত শুনানী গ্রহণ করা হয়েছে। আরও কিছু তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই করে তদন্ত রিপোর্ট আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারবো। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, অধ্যক্ষ বেশ কয়েকদিন কলেজে আসেনি। তার কাছ থেকে কোন ছুটি নেননি বলে জানান। তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে কোন অনিয়ম প্রমানিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অধ্যক্ষ জি এম আব্দুস সাত্তারের অপসারণের দাবি জানিয়ে পৃথক আরও একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। এসময়ে উপস্থিত শতাধিক শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে হাজির হয়ে অধ্যক্ষের নানা অপকর্ম, অনিয়ম ও দূর্নীতির কথা তুলে ধরেন।
