কয়রা (খুলনা )প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের অত্যাচারিত শাসক শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামীলীগকে এই বাংলার মাটিতে স্বৈরাচারী হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে জনরোষানলে পালিয়ে গেছেন। ভারতে বসে বিদেশি প্রভুদের নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে রেখে যাওয়া দাসদের নিয়ে আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছেন হাসিনা ।এই ষড়যন্ত্রকে আপামর সাধারণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।
গতকাল বিকেল ৩ টায় খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী বাজার চত্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমাদী শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল যুব সমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা তিনি বলেন।
জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, সৎ লোকের ক্ষমতা ও শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না।
১৫ বছর ৭ মাস এই জাতি ছিল গণতন্ত্রহীন আইনের শাসনের বাইরে বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে দেশের মানুষ দল-মত নির্বিশেষে জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এদেশের মানুষ, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে গুম হতে হয়েছে বোন হতে হয়েছে ক্রসফায়ারের মুখোমুখি হতে হয়েছে অথবা কারাগারে বন্দী হতে হয়েছে এইসবের প্রেক্ষিতে শুরু থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছিল। কিন্তু কোন আন্দোলন যৌক্তিক পরিণতি লাভ করতে পারেনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বহু মানুষের জীবন ও রক্তের মাধ্যমে একটি যৌক্তিক পরিণতি লাভ করেছে। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। এই দেশের মানুষ আবার নতুন করে স্বাধীনতা লাভ করেছে। তাই আসুন আমরা সৎ লোকের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করি। মানুষের তৈরি আইন শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। শান্তি আনতে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। কারণ স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নতুন নতুন আইন তৈরী করে দেশের মানুষদের অন্যায় ভাবে হত্যা, গুম, জুলুম-নির্যাতন করেছে। তাদের জুলুমে সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী শাসনামলে দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মানুষের ভোটাধিকার, বিরোধী দলগুলোকে সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং করার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মহান আল্লাহ স্বৈরাচার সরকারকে বিদায় করেছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোন ব্যস্ততা নেই আমরা চাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে থাকা দেশটাকে সংস্কার ও পুনঃ গঠন করুক তারপর নির্বাচন।
অন্যান্য বক্তরা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করেছিল। দলীয় মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলেছিল। আজ দেশের মানুষ স্বাধীন। আগামীর দেশ হবে সুন্দর ও শান্তির বাংলাদেশ। বিগত দিনের সরকারের দূর্নীতি অনিয়ম করে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছেন। আগামী দিন জামায়াত ইসলামকে রাষ্টের ক্ষমতায় আনা হলে দেশে অনিময়, দূর্নীতি থাকবে না। দেশ পরিচালনা হবে কুরআন হাদিসের আলোকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বক্তা এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান সহ- সেক্রেটারি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী খুলনা জেলা, সম্মানিত অতিথি মাওলানা মিজানুর রহমান আমির বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী কয়রা উপজেলা ,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ সেক্রেটারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কয়রা উপজেলা ,বিশেষ অতিথি মাওলানা রফিকুল ইসলাম আমির বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগালী ইউনিয়ন কয়রা, খুলনা, মাওঃ সাজ্জাদুল ইসলাম আমির বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমাদী ইউনিয়ন, হাফেজ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি যুব বিভাগ কয়রা উপজেলা,জি, এম মোনায়েম সেক্রেটারি যুব বিভাগ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কয়রা খুলনা , মোঃ মেহেদী হাসান রাসেল সভাপতি যুব বিভাগ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমাদী ইউনিয়ন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা ।