বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি, সুষম বণ্টন, সবার জন্য অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা জনিত নিরাপত্তা, সুনীতি, সুশাসন, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শান্তির দল। আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজনকে নিয়ে ১০৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে।
সৈয়দ আবদুল্লাহ সহিদ বলেন, 'বাংলাদেশে দুর্নীতি ও ঘুষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দুইটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং আজো বিশ্বের অন্যতম একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। দেশে সরকারি কাজে ব্যাপক ঘুষবাণিজ্য, চাকরিতে নিয়োগ বাণিজ্য, মাদক আগ্রাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভূমি দস্যুতা, ব্যাপক হারে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, শেয়ারবাজার কেলেংকারি, খাদ্যে ভেজাল-ফরমালিন মিশ্রণ, গুম, খুন, নারী-শিশু পাচার ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন অন্যায় ও অপরাধে দেশে এক চরম বিপর্যয়কর রূপ ধারণ করেছে।'
দলীয় গঠণতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রে ৬টি মূলনীতি ও ১৯ দফার এক বৈপ্লবিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। ৬টি মূলনীতির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বে ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা সমুন্নত রাখা। মান সম্পন্ন ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করা। দেশে সুর্নীতি, সুশাসন, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। মুক্ত অর্থনীতি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সবার জন্য অর্থনৈতিক মুক্তির নিশ্চয়তা বিধান করা। সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের মাধ্যমে সবার জন্য মৌলিক চাহিদা জনিত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান করা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন নীতির মাধ্যমে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা জনিত নিরাপত্তা বিধান করা ও ইসলামী মূল্যবোধ এবং সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা।
এছাড়াও ১৯ দফার আলোকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্তিশালী স্বশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা এবং জনগণের মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। রাজনীতিতে কালো টাকা, পেশিশক্তি ও রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার অবসান করা। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা জনিত মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সহজলভ্য করা। শতভাগ শিক্ষা এবং যুগোপযোগী সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা। মুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আলোকে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি করা। গণমুখী ও জবাবদিহিমূলক দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জাতীয় বেতন স্কেলের সহিত সামঞ্জস্যতা ক্রমে গার্মেন্টসসহ সকল শ্রমিকের বেতন নির্ধারণ করা। তেল, গ্যাস, প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদ উত্তোলনে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিধি ও রীতিনীতির বাইরে যেন অধিক মুনাফা নিতে না পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দুর্নীতি ও ঘুষমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, নারী-শিশু পাচার ও নির্যাতন বন্ধ করা। সব ধরনের খাদ্য ভেজালমুক্ত করা। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশে মাদক অনুপ্রবেশ ও বিক্রয় বন্ধ করা। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, গুম, খুন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধ বন্ধ করা, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, শেয়ারবাজার কেলেংকারি, ভূয়া মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি কর্তৃক জনগণের টাকা আত্মসাৎ ও ব্যক্তি পর্যায়ে সুদের ব্যবসা বন্ধ করা। অসহায় মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ফান্ড গড়ে তোলা। স্বেচ্ছা তহবিল গঠন ও যাকাত আদায়ক্রমে আর্থিক অনুদান প্রদান করা। ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা ও সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে সমমর্যাদার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করা। তাই, বাংলাদেশকে একটি শান্তিময়, নিরাপদ ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে ছাত্র, যুব, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিকসহ সকল স্তরের জনগণকে বাংলাদেশ শান্তির দলের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাই।
শুভেচ্ছান্তে
এ্যাডভোকেট সৈয়দ আবদুল্লাহ সহিদ
চেয়ারম্যান,
বাংলাদেশ শান্তির দল, ঢাকা, বাংলাদেশ মোবা:০১৭১২-৫২৮০৪৫, ০১৯১৭৫৮২১১৭
ই-মেইলঃ sasaheed@gmail.com