বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাট জেলা সদরের ডেমা ইউনিয়নের কালিয়া এলাকার বিএনপি নেতা শাওন ও তার পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের হুমকির শিকার হয়েছেন। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে যারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে এবং বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে এখন তারা আবারও একত্রিত হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকি ধামকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে।
কালিয়া এলাকার বিএনপি নেতারা জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফারুক শেখের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা আতিয়ার শেখ, বজলু শেখ, জাকারিয়া মোল্লা, জারগিস মোল্লা ও বাবুল শেখসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এলাকায় শক্তি বৃদ্ধি করে বিএনপি নেতাদের উপর নির্যাতন করার পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে আসার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চালানোর পরিকল্পনা করেছে তারা।
বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এলাকার শহিদুল ইসলাম শেখের ছেলে জেলা যুবদল নেতা শাওন শেখের বাড়িতে হামলা করে বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় তারা। সে সময় ৩-৪ টি দোকান ঘরও ভাঙচুর করে তারা। শাওন শেখের মায়ের গলায় দা ধরে হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। শাওন শেখের ভাই নয়ন শেখ ওই এলাকার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তাদের পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত।
আওয়ামী লীগ নেতা বজলু ষড়যন্ত্র করে পার্শ্ববর্তী বহরবুনিয়া এলাকার একটি হত্যা মামলায় শাওন শেখের বাবাকে জড়িত করে। কালিয়া এলাকার অপর একটি হত্যা মামলায় বাবার সাথে যুবনেতা শাওন শেখকে ও আসামি করে হয়রানি করে তারা। ৫ আগস্টের পর অভিযুক্তদের নামে সন্ত্রাস বিরোধী মামলা সহ ৩-৪ টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বজলুর রহমান বছর খানেক জেলও খেটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বর্তমানে জামাত ও বিএনপি নেতাদের ছাত্র ছায়ায় এলাকায় বসবাস করছে তারা। কিন্তু থেমে নেই তাদের ষড়যন্ত্র। বিভিন্ন জায়গায় গোপনে বসে আবারো এলাকায় অশান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টির পায়তারা করছে তারা। এমতাবস্থায় দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। শাওন শেখ ও তার পরিবার যাতে আগামী সরকারের সময়ের মত আবারো হামলা ও হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান এলাকাবাসী।